ষ্টকহোমে বৈশাখী অনুষ্ঠান


লিয়াকত হোসেন/ ষ্টকহোম ২০শে এপ্রিল ২০১৫
s4স্বাধারনত ছুটির দিন গুলোতেই প্রবাসীদের অনুষ্ঠান গুলো হয়ে থাকে।
এতে করে সবাই নির্ধািরত অনুষ্ঠান গুলোতে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। বৈশাখ গিয়েছে ১৪ই মঙ্গলবার, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় কারো পক্ষে ঐ দিন বৈশাখ পালন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই বৈশাখী অনুষ্ঠান গুলো হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে s1বিভিন্ন মাসে। যেমন বাংলাদেশ দূতাবাস বৈশাখী পালন করছে আগামী ২রা মে, শনিবার। অবশ্য আমন্ত্রিত হলেও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া যাচ্ছেনা কারণ সে সময় পূর্ব র্নিধারিত এশিয়া মাইনর ভ্রমণে থাকতে হচ্ছে। গত ১৯শে রবিবার ষ্টকহোমে এই বছরের প্রথম বৈশাখী পালিত হল ভেলিংবীতে। বরাবরের মত এবারও সীমা ও আs2তাউল গনীর ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে প্রবাসী ৫০টি পরিবার বৈশাখী অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবার একটি দুটি করে ডিশ তৈরী করে নিয়ে এসেছিলেন। এতে করে বৈশাখীর মুখরোচক খাবারের অভাব ছিলনা। যেহেতু বৈশাখের সঙ্গে সম্রাট আকবরের সর্ম্পক আছে তাই মনি ভাবী তৈরী করে নিয়ে এসেছিলেন আকবরী হালুয়া। আবিদ ভাই এনেছিলেন ছয়টি ইলিশ। ইলিশের দাম চড়া হলেও ইলিশ ছাড়া বৈশাখ হয় কি করে? খাদ্য তালিকায় র্ভতা ভাজি হতে আরম্ভ করে সবই ছিল। শুধু মুখোরুচক খাবারই নয়, গান বাজনা ও খেলাধূলার আয়োজনও ছিল। জাহাঙ্গীর ভাই এক নাগারে বাদ্য বাজনা সহ সবাইকে নিয়ে গান গেয়েছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আবৃতি করেছেন ইসরাত জাহান। সীমা গনী ও কামাল ভাবী সবার কাছে কিছু কুইজ প্রশ্ন রেখেছেন,সব গুলো প্রশ্ন ছিল বৈশাখ সংক্s3রান্ত। প্রশ্ন গুলো তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠিন হলেও খন্ড খন্ড উত্তর সবাই দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের এক কোণায় একটি জটলায় ছিলেন কয়েকজন।
সবার চোখেমুখে উত্তেজনা, সবার চোখ মোবাইলে আবদ্ধ। জাহাঙ্গীর ভাই বার বার মাইকে বলেও তাঁদের দৃষ্টি ফেরাতে পারছিলেন না। শুধু আবিদ ভাইয়ের কন্ঠে শোনা গেল,‘আর মাত্র তিন রান বাকী।’ হা, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা চলছিল। বাংলাদেশ জয়ের পথে। উত্তেজনা হবারই কথা। এক সময় কোনের সবাই জয়ধ্বনি দিয়ে লাফিয়ে উঠলেন। বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জিতে গেছে। উত্তেজনায় ডঃ তারেখ মাহফুজ দাঁড়িয়ে উঠে খাবারের টেবিল হতে রসগোল্লার পাত্রটি উঠিয়ে সবাইকে মিষ্টি মুখ করালেন। এই মিষ্টি বাংলাদেশ জয়ের, এই মিষ্ঠি বৈশাখীর। যাবার আগে সাব্বির ভাই স্মৃতি চারণ করলেন, ঠিক এই মাসে, এই দিনের পরন্ত বিকেলে আজ হতে ৪০ বছর আগে তিনি ষ্টকহোম পদাপর্ন করেন। দেখতে দেখতে ৪০টি বছর পার হয়ে গেছে। সাব্বির ভায়ের মতো আমাদেরও অনেকের অনেক সময় পার হয়ে গেছে। রয়ে গেছে বৈশাখ চিরন্তর হয়ে।