সম্পাদকীয়


প্রিয় পাঠক,নিশাত মাসফিকা

শুভেচ্ছা নেবেন।

আপনাদের শুভকামনাকে ধারন করে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ওয়েবে যাত্রা শুরু করলো। জীবনের অনুরণন – এই স্লোগান নিয়ে চার বছর আগে জুলাই ২০১০-এ যাত্রা শুরু হয় লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনের। নতুন এই যাত্রা মুহূর্তে আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি লাইফস্টাইলের সকল পাঠক, লেখক, মডেল, বিউটি এক্সপার্ট, ফটোগ্রাফার, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি দেশের সীমানা পেরিয়ে লাইফস্টাইল প্রবাসে যে স্থান করে নিয়েছে ওয়েব সংস্করণে তার মাধ্যমে সে অবস্থানকে আরো বেশি দৃঢ় করে তুলবে। এখন আপনার পিসি, ট্যাব কিংবা মোবাইলে খুব সহজেই পৌঁছে যাবে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন।

‘পরিবারের নতুন সদস্য’ হিসাবে লাইফস্টাইল যাত্রার শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিল দেশীয় সংস্কৃতি ধারণ ও পারিবারিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে পথ চলার। পাঠক আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছেন।

একজন মানুষের লাইফস্টাইলের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার পরিবার। সচেতন বা অবচেতনভাবে পরিবার মানুষের মনোজগতে প্রভাব ফেলে। শুরু থেকেই লাইফস্টাইল একটি পারিবারিক পত্রিকার ভূমিকা পালন করছে। ফলে বিষয় নির্বাচন এবং পরিবেশনায় আমরা সবসময়ই সতর্ক এবং সচেতন থাকার চেষ্টা করেছি। যে কোনো ধরনের আপত্তিকর লেখা এবং ছবি প্রকাশ থেকে আমরা সব সময়ই বিরত থেকেছি। সূচনা সময়ে আমরা বলেছিলাম,‘ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে অনেক অনুসঙ্গ জড়িত। সেই বিষয়গুলোকে যারা সঠিক সমন্বয় করতে পারেন তারাই জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন। সেই সুন্দরকে খুঁজে পেতে, জীবনকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করতে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ম্যাগাজিন লাইফস্টাইল।’

বর্তমান সময়ে একজন মানুষ কর্মজগতের প্রতিযোগিতায়, পারিবারিক জীবনের জটিলতার মধ্যেও কীভাবে ভালোভাবে জীবন ধারণ করতে পারেন এবং একইসঙ্গে আত্মোপলব্ধির আনন্দ পান তার জন্যই আমরা সবসময় চেষ্টা করে চলেছি। ব্যক্তিকে একক ধরে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা বিশ্ব বৈচিত্র্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করছি। পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন সব কিছুই লাইফস্টাইলে স্থান পাচ্ছে।

গত ক’বছরে লাইফস্টাইলের চেষ্টা ছিল বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে লাইফস্টাইল কিছু সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তৈরি করার চেষ্টা করছে। পরিবেশ রক্ষা এবং প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর আবেদন করা হয়েছে প্রথম সংখ্যা থেকেই। লাইফস্টাইলের প্রথম সংখ্যার কভার স্টোরি ছিল ‘সবুজ ভুবন সবুজ জীবন’ শিরোনামে। একটি চারা গাছ হাতে ছবিটির মাধ্যমে লাইফস্টাইলের জীবন শুরু এবং একই সঙ্গে পরিবেশের সঙ্গে এর একাত্মতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। একটি ছোট গাছের মাধ্যমে লাইফস্টাইলের যাত্রা শুরুর পর্যায়টি শুধু রূপক অর্থে আনা হয়নি, এর মাধ্যমে সবুজায়ন নিয়ে নিয়মিত প্রচার চালানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সারা পৃথিবী জুড়ে পরিবেশ বিপর্যয় জীবজগতকে বিপন্ন করে তুলেছে।

এর প্রতিরোধে পরিবেশ রক্ষা করা এবং ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজন পাখিসহ প্রাণীজগতের প্রতি সদয় হওয়া। একটি সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা সবসময়ই দেখি। যে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এখনো। লাইফস্টাইলের জুন ২০১১ সংখ্যায় সেই সবুজ এবং পরিবেশ ওঠে এসেছে নতুন মাত্রা নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে বিশেষ ভাবে স্মরণ করছি আমাদের পরিবারের সদস্য, লাইফস্টাইলের ফটো এডিটর প্রয়াত কাজী হামিদুল হককে। বাংলাদেশে আন্ডার ওয়াটার, প্যানোরমিক ভিউ এবং ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফির এই পথিকৃৎ ফটোগ্রাফারের পরিবেশ বিষয়ক অনেক ছবি লাইফস্টাইল প্রকাশ করেছে। কাজী হামিদুল হক তার আন্তর্জাতিক পরিসরে ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা ঢেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি।

কাজী হামিদুল হকের পাশাপাশি আমরা গভীর ভাবে আরো স্মরণ করছি বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদকে। যিনি সব সময়ই লাইফস্টাইল পরিবারের শুভাকাঙ্খী হিসেবে সাহস ও প্রেরণা দিয়ে গিয়েছেন। রিপোর্টিং-এর এই শিক্ষাগুরু অকপটে তার মতামত দিয়েছেন। যা আমাদের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবে।

লাইফস্টাইলের আরেকটি নিয়মিত ক্যাম্পেইন আত্মজয়ী বিভাগ। শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষদের সাফল্যের কথা ওঠে এসেছে এই বিভাগে। এখানে এসেছে আত্মজয়ীদের প্রতি আমাদের কর্তব্য এবং করণীয় বিষয়গুলোও। কারণ আমাদের সমাজে শারীরিক সীমাবদ্ধতার শিকার মানুষেরা সাধারণত তাদের প্রাপ্য সম্মান এবং সহযোগিতা পান না। আমরা তাদের আত্মজয়ী হিসেবে বর্ণনা করতে চাই। দেশ ও বিদেশের আত্মজয়ী মানুষদের কাহিনী আমরা তুলে ধরছি নিয়মিতভাবে। প্রবাসে তাদের সুযোগ সুবিধার বিষয়টিও আমরা নিয়ে আসছি। আমরা চাই আত্মজয়ীরা সবার সঙ্গে সব বিষয়ে সমানভাবে অংশ নিয়ে যেন সমাজের প্রয়োজনীয় অংশে পরিণত হন।

দেশ এবং প্রবাসের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রচনা করেছে লাইফস্টাইল। প্রবাসী অংশে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক জানা অজানা বিষয়। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক এখন প্রবাসে থাকছেন। প্রবাসীদের জন্য লাইফস্টাইলের একটি অংশ সবসময়ই বরাদ্দ থাকছে। সেখানকার জীবনধারা আমরা তুলে ধরছি। দেশি এবং প্রবাসীদের মধ্যে একটি প্লাটফরম হিসেবে কাজ করবে লাইফস্টাইল। এরই মাঝে প্রবাসীদের মধ্যে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহের জন্ম হয়েছে, যা আমাদের উৎসাহিত করেছে।

ফ্যাশন লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি, আমাদের নিজস্ব সামাজিক মূল্যবোধকে বজায় রেখে ফ্যাশনকে সবার সামনে তুলে ধরতে। প্রতি সংখ্যাতেই এই চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে দেশি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে তুলে ধরতে সব সময়ই লাইফস্টাইল উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে।

একদল স্বাপ্নিক মানুষ এদেশের পোশাক শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। একটা সময় ছিল অধিকাংশ মানুষ বিদেশি কাপড়ের ওপর নিভরশীল ছিল। কিন্তু তারা সেই বৃত্তকে ভেঙে দিয়েছেন। সাধারণত ফ্যাশন হাউজগুলোর পোশাক মডেলদের পরিয়ে ফটোসেশন করা হয়। লাইফস্টাইলের আয়োজনে মডেল হয়েছেন ফ্যাশন হাউজগুলোর উদ্যোক্তা ও ডিজাইনারগণ। ব্যতিক্রমী এই উপস্থাপনার মাধ্যমে আমরা সম্মনিত করতে চেয়েছি বাংলাদেশের পোশাক বৈচিত্রে ও অবস্থানে নতুন মাত্রা সংযোগকারী কয়েকজনকে। সবাইকে লাইফস্টাইলে আনা হয়তো সম্ভব হয় নি তবে প্রতিনিধিত্বশীল এই সেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সকল উদ্যোক্তা ও ডিজাইনারদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

ফ্যাশন জীবনের অংশ। ফ্যাশন বলতেই অনেকেই তা তরুণ প্রজম্মের কথা ভাবে। কিন্তু যাদের বয়স হয়েছে তাদের নিয়ে ফ্যাশন ভাবনা আমাদের দেশে খুব কম হয়। ফ্যাশন শুধু তরুণ প্রজম্মের জন্য নয়, ফ্যাশন সবার জন্য। লাইফস্টাইল কৃতজ্ঞ এমন কিছু মানুষের কাছে যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সম্মনিত এবং প্রতিষ্ঠিত। গুণী এই সিনিয়র সিটিজেনরা শত ব্যস্ততার আমাদের সময় দিয়েছেন। জানিয়েছেন তাদের ফ্যাশন ভাবনা আর জীবনধারা সম্পর্কে। আমরা প্রত্যেকে তাদের জীবন থেকে কিছু না কিছু শিখতে পেরেছি।

বিভিন্ন সময় লাইফস্টাইল বিষয়ভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংখ্যা পাঠকদের কাছে বড় আবেদন রেখেছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি ২০১১-এর ‘বিয়ে’ সংখ্যাটি ছিল লাইফস্টাইলের জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট। এই সংখ্যায় দেশের শীর্ষ মডেল থেকে শুরু করে বিদেশিনী মডেলও অংশগ্রহণ করেন। বিয়ে সংখ্যা মাত্র সাতদিনে সব কপি ফুরিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত বা দেড়শতম জন্মজয়ন্তীতে লাইফস্টাইলের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের পর আমরা সকল শ্রেণীর পাঠকের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমরা অভিভূত হয়ে পড়েছি। একই সঙ্গে বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন ছিল একই সংখ্যায়। অনেক জায়গাতেই অল্প সময়ে কপি ফুরিয়ে যায়। এই সংখ্যাটির জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা ভিন্নভাবে স্বাধীনতার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে আজ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে আমরা যেভাবে চলতে পারছি তা সম্ভব হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগের কারণে।

দুরন্ত বৈশাখ, ঝরো বৈশাখ, রঙিন বৈশাখ শিরোনামে বৈশাখ সংখ্যাগুলো পাঠকদের আগ্রহ কুড়িয়ে নেন। সংখ্যাগুলোতে বৈশাখকে তুলে ধরা হয় বর্তমান সময়ের উপযোগী করে।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলে সারা বিশ্ব দেখেছে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য বাঙালি কীভাবে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারে। ভাষার প্রতি ভালোবাসার এই অনন্য উদাহরণ আমাদের সারাজীবনের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে। ষাট বছর পেরিয়েছে ভাষা আন্দোলনের সেই অমর দিনগুলোর স্মৃতি। লাইফস্টাইল ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে এসেছে ভিন্নভাবে। শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সারা পৃথিবীতে সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে হিসাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে তা পালিত হয় ভালোবাসা দিবস হিসাবে। লাইফস্টাইলের এসব সংখ্যায় সব ধরনের ভালোবাসাকে প্রাধ্যন্য দেয়া হয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, বাবা-মা, আত্মীয়, বন্ধু এমনকি পোষা পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা নিয়েই আসলে ভালোবাসা দিবস। একারণে পশ্চিমি দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের ব্যাপকতা অনেক বেশি এবং এর ফলে একটি সার্বজনীন ভালোবাসা দিবসের প্রচার ও প্রসারের জন্য বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পারে। লাইফস্টাইলের ভালোবাসা সংখ্যায় আমরা চেষ্টা করেছি সেই সার্বজনীন ভালোবাসাকে তুলে ধরতে। একারণে আমাদের ফটোসেশনগুলোতে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণ ম্যাগাজিনটিকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সাহিত্য লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনে ভিন্ন ধারায় প্রকাশিত হয়েছে। কবিতায় নারী – এই শিরোনামে পাঁচজন বিশিষ্ট কবির কবিতার পাশাপাশি সেই কবিতাটি বিশ্লেষণ ও নতুন ধারায় ফটোশেসনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা ভাষার চিরায়ত প্রেমের কবিতার কয়েকটি চরিত্র নিয়ে এই উপস্থাপনা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

আমাদের ছেলেবেলার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রূপকথার প্রভাব। রাজা রানি রাজপুত্র রাজকন্যা মন্ত্রীপুত্র এই চরিত্রগুলো আমাদের মনোজগতে নানাভাবে প্রভাব ফেলে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের তৈরি করা এসব গল্পে অনেক ঘটনার ভেতর দিয়ে নৈতিক শিক্ষা দেয়ার বিষয়টিও ছিল। প্রতিটি গল্প শেষ হতো শুভ পরিণতির মধ্য দিয়ে। রূপকথা আমাদের মনকে অন্যভুবনে নিয়ে যায়। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে রূপকথা অনেকটা হারিয়ে গেলেও আমরা তা হৃদয়ে এখনো অনুভব করি। সেই হারিয়ে যাওয়া, ভুলে যাওয়া কিংবা অবহেলায় ফেলে রাখা রূপকথার কয়েকটি প্রাণভোমরাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে লাইফস্টাইল। গ্রাফিক্স আর ফটোগ্রাফির সমন্বয়ে রূপকথার সেই চরিত্রগলো কিছু সময়ের জন্য পাঠকদের নিয়ে যায় রূপকথার ভুবনে।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। নারী এখন নির্ভরশীল নয় বরং নারী এখন নির্ভরতার প্রতীক। নারীদের এগিয়ে চলা বিষয়টি বিভিন্ন সময় কভারস্টোরিতে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও একটি বিষয় খাবার ও রেসিপিকে তুলে ধরা হয়েছে নতুনভাবে। লাইফস্টাইল-এর পাঠকেরা এ বিষয়টিতে আমাদের নানাভাবে প্রেরণা জুগিয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় ঈদ আয়োজন, পূজোর আয়োজন, ক্রিসমাস আয়োজন ইত্যাদির মাধ্যমে ধর্মীয় কর্মকান্ডকে তুলে ধরা হয়েছে নতুনভাবে। প্রাসঙ্গিকভাবে বলা যায়, পবিত্র বড় দিন উপলক্ষে খৃষ্টান ধর্মীয় গুরু মান্যবর আর্চ বিশপ এবং চার্চের সবাই যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। বড় দিনের অনেক আগেই পুরো চার্চ সাজিয়ে ছবি তুলতে মডেল হয়েছিলেন মান্যবর আর্চ বিশপ, ফাদার ও সেবকগণ। একইভাবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আমাদের ছিল ভিন্ন মানের আয়োজন। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মনেপ্রাণে লালন করার চেষ্টা করেছি আমরা।

লাইফস্টাইলের কাজ করতে গিয়ে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জের একটি গ্রামের কথা বলতেই হবে। যেখানে ফটোসেশনের সময় একদল স্কুল শিক্ষার্থী তাদের আন্তরিকতা দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করে। লাইফস্টালের ছবি তোলার সুবিধার জন্য স্কুল ছুটি দেয়া হয়। একটি পোকাও যেন কোনো সমস্যা না করে সে বিষয়ে এই শিশুরা ছিল খুব সচেতন। তাদের দলবদ্ধ অটোগ্রাফ দেয়ার আনন্দ কখনো ভোলার নয়।

বিভিন্ন সময়ে লাইফস্টাইলে জায়গা করে নিয়েছে প্রকৃতিসহ নানা বিষয়ের ফটোগ্রাফি,পরিবেশ, আত্মউন্নয়নমূলক, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, বৃদ্ধাশ্রম, শ্রদ্ধাঞ্জলি, এটিকেট অ্যান্ড ম্যানার্স, শপিং, কৌতুক, ভ্রমণ, ঋতুভিত্তিক আয়োজন, বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, পুরানো গাড়ি, ক্যারিয়ার, বিকিকিনিসহ অসংখ্য বিষয়।

আমরা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছি সফল তরুণ তরুণীদের সামনে নিয়ে আসতে। পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার এভারেস্টে যাওয়ার আগেই আমরা তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করি তার শুভকামনা করে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী হন। দুইবার এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিতের লেখা এবং ছবি প্রকাশিত হয়েছে লাইফস্টাইলে। লাইফস্টাইলের প্রথম বর্ষপূর্তির ঘরোয়া অনুষ্ঠানে এম এ মুহিতকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনেক নতুন মডেলের যাত্রা শুরু হয় লাইফস্টাইলের মাধ্যমে। তাদের অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত ও আলোচিত। আমরা আনন্দিত তাদের এই সাফল্যে। লাইফস্টাইল শুরু থেকেই দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। একারণে অনেক পাঠক দেশীয় ফ্যাশনের খোঁজ নিতে লাইফস্টাইলকে সঙ্গী করে নেন।

প্রথমেই বলা হয়েছে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘পরিবার’ বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বসহকারে দেখে। আমরা মনে করি, পরিবার বলতে শুধু নিজের পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিবার হতে পারে। সকলের সম্মিলিত আন্তরিকতা ও চেষ্টার ফলেই সুন্দর একটি কাজ বেরিয়ে আসে। আর সে কারণেই আমরা টিমওয়ার্ককে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এই টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজে আনন্দ সৃষ্টি হয়। সেই আনন্দ আমরা পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।

ওয়েবে যাত্রা করার এই শুভক্ষণে আমাদের প্রিয় কিছু ভাবনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। আমরা আশাবাদী প্রিন্ট এবং ওয়েব সংস্করণ দুটোতেই আপনাদের সহযোগিতা থাকবে।

এই আনন্দময় মুহূর্তে আবারো আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন।

এবং সংযুক্ত থাকুন।

নিশাত মাসফিকা

Share This: